দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, বাড়ছে গ্যাস-বিদ্যুৎ, এলপিজি, বাড়িভাড়া ও শ্রমিকের মজুরিও। কিন্তু এসব ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাবারের দাম বাড়াতে পারছেন না রেস্তোরাঁ মালিকরা। দাম সমন্বয় করতে গেলেই জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এতে ক্রেতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের রেস্তোরাঁগুলোতে বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে খাবারের দাম সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বন্ধ, সম্পূরক শুল্ক ও উৎসে কর প্রত্যাহার, একক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতারা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর পল্টনের একটি হোটেলে রেস্তোরাঁ খাতের সংকট নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, ডিম, মসলা ও শাকসবজিসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, পরিবহন, বাড়িভাড়া ও শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে। কিন্তু এসব ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবারের দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে একদিকে আয় কমছে, অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক রেস্তোরাঁ টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে পড়েছে।
ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ খাতের কাঁচামাল ও পরিচালন ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও ব্যবসায়ীরা সেই অনুপাতে খাবারের দাম সমন্বয় করতে পারছেন না। দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নিলে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাপ এবং হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার হুমকিও দেয়া হচ্ছে।
তার মতে, খাবারের দাম নির্ধারণে কাঁচামালের ক্রয়মূল্য, শ্রমিকের মজুরি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে। প্রকৃত ব্যয় যাচাই না করে মূল্য সমন্বয়ের কারণে ব্যবসায়ীদের জরিমানা বা হয়রানি করা বন্ধ করতে হবে।
রেস্তোরাঁ ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে ১০ থেকে ১২ ধরনের অনুমোদন নিতে হয় বলে দাবি করেছে মালিক সমিতি। সংগঠনটির মতে, একাধিক দপ্তরের অনুমোদন নিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে। এতে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি কার্যকর তদারকিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ সমস্যা সমাধানে রেস্তোরাঁ খাতের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু এবং একটি একক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, একক কর্তৃপক্ষের অধীনে সমন্বিত লাইসেন্স ও তদারকি ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং রেস্তোরাঁকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও সহজ হবে।
রেস্তোরাঁ খাতে বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ২ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে মালিক সমিতি। একই সঙ্গে ভ্যাট আদায়ের নামে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
পাশাপাশি অনিবন্ধিত রেস্তোরাঁ এবং সড়কের পাশে পরিচালিত খাবারের ব্যবসা বা স্ট্রিট ফুডকেও ভ্যাটের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা। এতে নিবন্ধিত রেস্তোরাঁগুলোর সঙ্গে অন্য ব্যবসার প্রতিযোগিতায় সমতা আসবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সমন্বয়হীন অভিযান ও অহেতুক জরিমানার বিরুদ্ধেও আপত্তি জানিয়েছেন নেতারা। তাদের দাবি, রেস্তোরাঁয় অভিযান পরিচালনার সময় মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধিকে সঙ্গে রাখতে হবে। হয়রানি বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
এদিকে দেশে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত উল্লেখ করে সীমিত পরিসরে মাংস আমদানির অনুমতি চেয়েছে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
সংগঠনটির মতে, আমদানির সুযোগ তৈরি হলে বাজারে মাংসের সরবরাহ বাড়বে। এতে দাম স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি রেস্তোরাঁর খাবারের উৎপাদন ব্যয় কমাতেও সহায়তা হতে পারে।
এছাড়া এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত, লোডশেডিং কমানো, ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং রেস্তোরাঁকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা, সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি প্রণয়ন এবং কর্মীদের দক্ষতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন মালিক সমিতির নেতারা।
কে